ঘোর গ্রীষ্ম মে মাস৷মানিকতলার রাস্তার উপর এক বিশাল বাড়ি৷সেই বাড়িতে ভাড়াটেও অনেক৷বাড়িটি চারতলা দ্বিতীয় তলায় থাকেন দত্তবাবুর পরিবার ৷গত বছর উনি নতুন এই বাড়িতে ভাড়া এসেছেন পেশায় ব্যাবসায়ী৷ফুলবাগানে রাস্তার উপর দত্ত বাবুর একটি জেন্টস কাপড়ের দোকান৷প্যন্টের পিস শার্টের পিস বিক্রি হয় আবার টেলারিং এর কাজও হয়৷উনি নিজে বড় টেলার৷আসামের হাইলাকান্দি জেলা থেকে উনি কাটিং শিখেছিলেন৷সেই সময় রেডি মেড পোশাকের আধিক্য এখনকার মতো ছিলনা৷ঘটনাটি আজ থেকে বেশ কিছু বছর আগেকার৷দত্ত বাবু রোজ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান আহ্নিক সেরে বাড়ির সামনের দিকের ব্যালকনি তে বসে চা খান আর খবরের কাগজ পড়েন৷তারপর সকাল ৯ টা বাজতেই দত্ত বাবুর স্ত্রী তাকে সাজিয়ে জলখাবার খেতে দেন উনি তাই খেয়ে দোকানে রওনা হন৷দত্ত বাবুর চেহারাটা বেশ৷লম্বায় প্রায় ৬ফুট সোজা টানটানে৷বয়সের কারণে শরীরে কিছু মেদ জমেছে ,গায়ের রং কালো কিন্তু বয়সের কারণে ত্বকে একটিও ভাঁজ পরেনি টানটানে মসৃণ ত্বক আর মুখশ্রীও সুন্দর৷এক কথায় সুপুরুষ বলা যায়৷ওনার নিজের প্যান্ট শার্টের দোকান থাকলেও উনি সব সময় সাদা ফক্ ফকে ধুতি পাঞ্জাবী পরতেন৷দত্ত বাবুর চার মেয়ে তিন ছেলে ও স্ত্রী৷সংসারে অভাব নেই স্বচ্ছল পরিবার কিন্তু ঐ একটি দোকান থেকে যা আয় হয় তাতে সকলের সবরকম চাহিদা সখ আল্হাদ মেটান কষ্টকর হয়৷তারপর বড় ও মেজ কন্যা তো বিবাহযোগ্যা৷বাকি ছেলে ও মেয়েদের পড়ার খরচ ছেলেদের ভবিষ্যৎ এই সকল চিন্তা তো সব সময় রয়েছে৷তাই আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে এই সব চিন্তাগুলো দূর হত এই ভাবনা সব সময় দত্ত বাবুর মনে আসে৷স্বভাবে মিশুকে কিন্তু খুব কম কথা বলেন উনি৷দোকান খুলে ঠাকুর কে ধূপ দেখিয়ে কাউন্টারে বসেছেন ৷চারজন কর্মচারী রয়েছে তারা তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে৷বেলা তখন বারোটা হঠাৎ এক লটারী টিকিট বিক্রেতা দত্ত বাবুর দোকানে এসে হাজির৷সে দত্ত বাবুকে বলে" দাদা একটা টিকিট নিন না৷"দত্ত বাবু এমনিতে সাংঘাতিক হিসেবী মানুষ উনি অপ্রয়োজনীয় খরচ করাকে নানান অপরাধের মধ্যে একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য করেন৷তাই লটারির টিকিট নৈব নৈব চ৷ উনি এতটাই হিসেবী যে মন্দিরের প্রনামী বাক্সে টাকা না দিয়ে ঘরের ঠাকুর ঘরে একটি ঘটের স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক দিন ঐ ঘটেই প্রণামি মানে আধুলী সিঁকি যখন যা থাকে তা জমা করেন এবং পরিবারের সকলকে এই নির্দেশ দিয়েছেন বছর শেষে ঐ ঘট ভেঙে ঠাকুরের কাজের যাবতীয় জিনিস কেনা হবে৷এমন হিসেবি মানুষ কি আর লটারীতে অর্থ ব্যয় করতে পারে৷কিন্তু লটারী বিক্রেতা নাছোড় বান্দা "একটা টিকিট দাদা আপনাকে নিতেই হবে৷বেশী দাম নয় একটাকা মাত্র৷নিন না আরে দেখুন না হয়ত লাখপতি হয়ে গেলেন৷আরে কখন কার ভাগ্য ঘোরে বলা যায়৷"লাখপতি এই শব্দ যেন বুকের ভিতর মনের দরজায় একটা ধাক্কা দিল৷লাখপতি৷এবার দত্ত বাবুর মন একটু confuse হয়ে গেছে৷আমতা আমতা করে উনি বললেন" তা দাও দেখি এত বলছ যে কি করি৷"উনি টিকিট টা পাঞ্জাবীর বুক পকেটে রেখে কাউন্টার থেকে একটা টাকা টিকিট বিক্রেতার হাতে ধরিয়ে দিলেন৷এরপর নানা কাস্টমার তাদের কাপড় দেখান৷কেউ কেউ আবার শার্ট বানাতে আসছে সামনে পয়লা বৈশাখ অনেকেই আগের থেকে বানাতে না দিয়ে সেই মুখে মুখে অর্ডার দিতে আসে তারপর ডেলিভারী পয়লা বৈশাখের আগে করতে হবে এই আব্দার করে৷তাই পুরোদিনটা প্রায় ব্যস্ততায় কাটল৷আজ বাড়ি ফিরতে বেস বেলা হয়ে গেছে ৷তারাতারি করে হাত মুখ ধুয়ে ধুতি পাঞ্জাবী ছেড়ে উনি খেতে বসলেন৷ছেলে মেয়েরাও না খেয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল ৷সবাই মিলে মাটিতে আসন পেতে খেতে বসেছে৷দত্ত বাবুর স্ত্রী খুব ভালো রাঁধেন৷গরম কাল পাখা ঘুরছে তাতেও সকলের ঘাম হচ্ছে৷দত্ত বাবুর স্ত্রী কাঁসার থালা বাটিতে সাজিয়ে খেতে দিলেন৷ভাত পটলের দোরমা কাতলা মাছের ঝোল কাঁচা আমের টকের ডাল আর তার সঙ্গে ঢেঁড়স ভাজা৷খাওয়ার পর দত্ত বাবু একটু দুপুরের ঘুম ঘুমোন তারপর বিকেল চারটে বাজতেই চা খেয়ে আবার দোকানের জন্য রওনা হন৷আজ এমনিতেই বেলা হয়ে গেছে তাই আজ আর শুলেন না৷ভেতেরর ঘরে চেয়ারে বসে সকলের সঙ্গে গল্প করছেন৷হঠাৎ খেয়াল হল আজ সকালে উনি একটা লটারীর টিকিট কেটেছেন৷বাড়ির লোকেদের সেকথা জানাতে সকলেই তো নানা আব্দার শুরু করে দেয়৷যেন লটারীর টিকিট কেনেনি লটারীতে টাকাই পেয়ে গেছেন৷কে পুজোর সময় কোথা থেকে দামি শাড়ি কিনবে কটা গয়না বানাবে এই নিয়ে নিজেরাই গল্প জুড়ে দেয়৷দত্ত বাবু ছেলে মেয়েদের ক্ষাণিকের এই উল্লাস দেখে নিজেকেও ওদের আনন্দে ভাসিয়ে দেন৷তারপর আবার দোকানের জন্য রওনা হলেন৷এই বেলাতেও কাজের ভালো চাপ ছিল৷বাড়ি ফিরতে প্রায় রাত ১১টা বাজল৷দোকানের হিসাব মিলিয়ে কর্মচারীদের পাওনা মিটিয়ে দোকানে তালা দিয়ে ফিরতে ফিরতে প্রায় রোজদিনই দেরি হয় এখন তো আবার পয়লা বৈশাখের সিজিন চলছে৷রাত্রে বেলায় খাওয়ার খেয়ে ঐ বাড়ির সামনের ব্যালকনিতে বসার অভ্যাস আছে উনার তাই সেই জন্য একটা easy chair সবসময় ব্যালকনিতে রাখা থাকে৷easy chair এ গা হেলিয়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে সারা দিনের কথা উনি এই সময় বসে বসে ভাবেন৷আজও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হল না৷তবে আজকের ভাবনাটা যেন একটু অন্য রকম৷আচ্ছা লটারীতে যদি সত্যি লাখ টাকা পাই৷তখনকার দিনে লাখ টাকার যথেষ্ট মূল্য ছিল৷তা দিয়ে গাড়ি বাড়ি অনায়াসে কেনা যেত৷তখন সোনার দরই ছিল ৫০০টাকা৷দত্ত বাবু এবার স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করলেন৷টাকাটা যদি সত্যিই পাই মেয়ে গুলোর বিয়ে বিরাট ধুমধাম করে দেব সব আত্মীয়দের দশদিন আগের থেকে নেমন্তন করব৷বাড়িতে ঠাকুর দিয়ে রান্না হবে৷কি আনন্দ৷দত্ত বাবুরা পাঁচ বোন তিন ভাই তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে বিশাল পরিবার৷উনি মনে মনে ভাবতে শুরু করলেন,একটা বড় বাড়ি বানাবো সেইখানে বিবাহিত দিদিদের জন্য কতগুলো আলাদা ঘর রাখব ওরা যখন ইচ্ছে এসে এখানে থাকবে৷দত্ত বাবুর স্ত্রীর নাম কমলাদেবী৷সকাল থেকে রাত অবধি উনি সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকেন৷প্রচুর পরিশ্রম করেন নিজের জন্য সময় বার করতে পারেন না৷স্বামি স্ত্রী একসাঙ্গে বসে গল্প করেননি প্রায় বহু বছর৷তাই এবার থেকে কমলা আর কোনও কাজ করবে না ওর আগে পিছে ঘুরবে এমন দুটো লোক রাখব আর ছেলে গুলোকে এই দোকানের কাজে ঢোকাব না ওদের অনেক লেখা পড়া করাব যাতে বড় চাকরি করতে পারে৷এই সব ভেবে দত্ত বাবুর বুক আনন্দে ভরে গেল সেই দিন উত্তেজনায় সারা রাত ঘুম হল না৷পরের দিন সকাল বেলা রোজকার রুটিণ অনুযায়ী সেই দোকানে যাওয়া দোকানের কাজের ব্যস্ততা এইভাবে গেল বেশ ক দিন৷এবার এল সেই বিশেষ দিন যেদিন টিকিটের রেজাল্ট বেড়ল পয়লা বৈশাখ বাম্পার৷সকালে উঠে এক হাতে খবরের কাগজ আর অন্য হাতে লটারীর টিকিট নিয়ে বসে পরলেন ব্যালকনির চেয়ারে৷প্রচণ্ড উত্তেজনায় হাতটা সামান্য কাঁপছে বুকটাও ধুকধুক করছে৷ছেলে মেয়ে স্ত্রী সকলেই আজ ঐ ব্যালকোনিতে দত্ত বাবুকে ঘিরে রয়েছে৷টিকিটটা মিলিয়ে দেখলেন ৬টা নাম্বারই মিলে গেছে৷উত্তেজনার শেষ নেই যেন৷চারিদিক বোঁ বোঁ করে ঘুরছে৷ছোট ছেলে দুটো তো আনন্দে চিৎকার করে উঠেছে মেয়ে গুলোর হাসিও থামে না৷দত্ত বাবুর চেটো ঘামে ভিজে গেছে কপালেও বিন্দু বিন্দু ঘাম৷এও কি সম্ভব৷হঠাৎ চেঁচিয়ে ছেলে মেয়েদের ধমকের সুরে বললেন "চুপ কর৷সবাই কে জানিয়ে ছাড়বি ,আমার কাছে এতগুলো টাকা আছে"৷ছোট ছেলেটির বয়স ৬ নাম হল নিমাই৷নিমাই করুণ ভাবে বলল "লোকে জানলে কি হবে বাবা৷"এই প্রশ্নের উত্তর দত্ত বাবুর কাছে ছিলনা কিন্তু এই প্রশ্নটা যেন অবচেতন মনের দুশ্চিন্তা গুলোকে মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিল৷খানিক্ষন চুপকরে থাকার পর উনি বললেন "তোরা আমায় একটু একা থাকতে দে৷একি হল এত দিনের অপেক্ষা যেটা চাইছিলাম সেটা পাওয়ার পর আমার মন অশান্ত কেন৷দিন কাল ভালো না আমার বাড়িতে এত গুলো মেয়ে আছে তার মধ্যে দুজন তো বিবাহযোগ্যা৷এত টাকার খবর পেয়ে বাড়িতে যদি ডাকাত পরে৷নানা এমন কেন হবে৷ছোট ছেলে দুটো তো হামেশাই এদিক ওদিক খেলতে যায় যদি কেউ টাকার জন্য অপহরণ করে না না এসব হবে কেন৷এসব ভাবতে ভাবতে দত্ত বাবুর শরীরটা যেন পাঁক দিয়ে উঠল৷মাথাটা ঘুরছে৷বাথরুমে গিয়ে ঘাড়ে মুখে জল দিলেন৷আজ জল খাবারে কিছুই খেলেন না চা বিস্কুট খেয়ে দোকানে রওণা হলেন৷দোকানে কাজ চলছে বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাৎ দত্ত বাবুর বড় মেয়ে কুসুম হন্ত দন্ত হয়ে এসে বলল "বাবা নীতা কোন সকালে স্কুলে গেছে এখনও ফেরেনি৷নীতা হল দত্ত বাবুর ছোট কন্যা৷দত্ত বাবু আঁতকে উঠলেন "সেকি বাড়ি ফেরেনি মানে৷"না এখনও ফেরেনি" কুসুম উত্তর দিল৷দত্ত বাবু দর দর করে ঘামতে শুরু করেছেন৷বুকের ভেতর কেউ যেন হাতুরী পেটাচ্ছে৷এক কারিগর কে বললেন "রহিম মিঞাঁ যাও তো একবার স্কুল চত্বরটা দেখে এস৷"কারিগরও শোনামাত্র কাজ ফেলে পায়ে চটি গলিয়ে শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে ছুটল স্কুলের পথে৷দত্ত বাবু কারিগরদের ভরসায় দোকান ফেলে ছুটলেন বাড়ি৷বাড়িতেও সকলে উদ্বিগ্ন কমলা দেবী সাধারণতঃ সব বিষয়ে নিরুত্তাপ থাকেন৷এই লটারীর ব্যাপারেও ওনার বিশেষ আগ্রহ ছিলনা কিন্তু আজ উনিও বাড়ির বাইরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন৷দত্ত বাবু আর বাড়িতে ঢুকলেন না৷রাস্তায় রাস্তায় কোথায় মেয়েকে খুজব৷হাঁটতে হাঁটতে আবার ফুলবাগানের মোড়ে এলেন৷সেখানে কালী মন্দির আছে৷মন্দিরে মায়ের কাছে হাত জোড় করে প্রার্থনা করলেন "হে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তুমিই আমার ভরসা৷মাগো আমার টাকা পয়সা ধন দৌলত কিছু চাই না৷আমার আজ বিশাল বিপদ তুমি আমায় রক্ষা কর৷"বুকের বাঁ পাশটা চিন্ চিন্ করে ব্যথা করে উঠল৷প্রচন্ড গরম পাঞ্জাবী ঘামে ভিজে গেছে শরীর মাথা আর চাপ নিতে পারছে না৷"তবে কি পুলিশে missing diary করব৷আমি কেন লোভে পড়ে লটারীর টিকিট কিনলাম৷ঐ থেকেই এত বিপত্তি৷ থানায় যাওয়ার আগে একবার বাড়ি যেতে হবে৷থানায় যদি ছবি চায় তা পাব কোথা থেকে"৷বেলা তখন গড়িয়ে প্রায় দুটো৷ঘরে ঢুকে দেখেন নীতা খাটের উপর বসে পাশের চেয়ারে দত্ত বাবুর জামাইবাবু মানে নীতার পিশেমসাই৷জামাই বাবুর নাম সতীশ সরকার৷উনি কাছাকাছি থাকেন৷সতীশ বাবু জানান"ওর স্কুল থেকে ফেরার পথে আমার সঙ্গে দেখা হল আমি বললাম কিরে পিসির কাছে যাবি?নীতা রাজি হয়ে গেল তাই নিয়ে গিয়েছিলাম৷"দত্ত বাবু বললেন"সেকি সতীশদা এ দিকে আমরা তো প্রায় থানা পুলিশ করব এমন অবস্থা৷"সতীশ বাবু জানালেন "না না এ তো আমারই ভীমরতি হয়েছিল৷"দত্ত বাবুর মেজদি নিঃসন্তান তাই দত্ত বাবুর ছেলে মেয়ে কে মেজদি ও জামাই বাবু নিজ সন্তানের মতো স্নেহ করেন৷যাক গিয়ে ঐ দিন মেয়ে কে ঘরে দেখতে পেয়ে দত্ত বাবুর বুকের চিন্ চিনে ব্যাথাটা কমল৷দুপূর বেলা খেতে বসে তেমন কিছু খাওয়া হল না৷সারাটা দিন যা গেছে তাতে কমলাদেবী বিশেষ কিছু রান্না করতে পারেন নি৷মুসুরির ডাল আলু সেদ্ধ মাখা মাছ ভাজা দিয়ে সকলের আহার সম্পন্ন হল৷বিকেল চারটে বাজতেই মেজ মেয়ে ডালিয়া বাবা কে চা করে দিল৷আলমারি থেকে পাট করা কাচা ধুতি পাঞ্জাবী বের করে দিল৷চা খেয়ে কাচা ধুতি পাঞ্জাবী পড়ে মৃদু হেসে ডালিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দত্ত বাবু বেড়িয়ে পরলেন সঙ্গে নিলেন লটারীর টিকিট৷সন্ধ্যে ৭ টা কোলকাতার রাস্তা ঘাটের ব্যাস্ততা৷একটা হালকা হাওয়া ছেড়েছে মনে হয় কোথাও বৃষ্টি হয়েছে৷হাসফাঁসের গরমটা আজ নেই৷কাউন্টারে বসে দত্ত বাবু বাইরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছেন৷এমন সময় ঐ টিকিট বিক্রেতা বিভূতি ঘোষ দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল৷দত্ত বাবু লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে নেমে দোকানের গেটের সামনে এসে জোড়ে হাকলেন৷"ঐ বিভূতি চলে যাচ্ছিস যে"৷বিভূতি ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে৷"আরে দত্ত দা বলুন বলুন"৷"বলুন মানে আমাকে লটারীর টিকিট টা গছালি তারপর৷আমার তো সব নম্বর গুলো মিলে গেছে৷"বিভূতি অবাক হয়ে বলে কই ঐ টিকিট টা যে এ চত্বরে লেগেছে এমন খবর তো আমার কাছে নেই কই দেখান টিকিটটা৷"৷দত্ত বাবু কম্পিত হস্তে টিকিট টা বিভূতির সামনে ধরে৷বিভূতি ঝোলা ব্যাগ থেকে একটা খবরে কাগজ বেড় করে মিলিয়ে দেখে বলে "দূর মশাই এত নম্বর মিলেছে সিরিজ মিলল কই৷"দত্ত বাবু অবাক হয়ে বলে" মানে সেটা আবার কি"বিভূতি বোঝায় এই যে দেখছেন ৬ টা নম্বর ৭৮৫৩৯২ তার আগে A আছে৷এইA টা হল সিরিজ আর যে নম্বরটা জিতেছে C৭৮৫৩৯২ তাই আপনি কোনও টাকা পাননি৷এই বলেই বিভূতি প্রস্থান করে৷দত্ত বাবুর উত্তেজনায় টান টান সব শিরা উপশিরা পেশী গ্রন্থি যেন এতক্ষণ পর ধীরে ধীরে শিথিল হল৷আস্তে করে চেয়ারে বসলেন৷একটা চরম শান্তির অনুভূতি হচ্ছিল৷বুকটা হালকা লাগছে৷বাইরের ঠান্ডা হাওয়া মাথা কপাল ছুঁয়ে গেল মনে হল কেউ যেন সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে৷মাথায় কোনও চাপ নেই৷ঈশ্বর তুমি আমার প্রার্থনা শুনেছ৷আমি আমার দৈনন্দিন জীবন দোকানের কাজ আমার নূন্যতম যা আয় হয় তাতেই খুশী বড় শান্তি৷আমার হঠাৎ করে বড়লোক হয়ে কাজ নেই৷আজ বড় হালকা লাগছে সব কিছু আবার আগের মত হয়ে গেছে৷আমি দিব্যি ছিলাম আর এরকমই থাকতে চাই৷শান্তি চাই৷শান্তির থেকে বড় উপহার এই বিশ্বে আর দ্বিতীয় কিছু নেই৷দোকানে কাজ মিটিয়ে রোজকার মত বাড়ি ফিরে রাতের খাওয়া সেরে ব্যালকোনির easy chair এ বসে আজ দত্ত বাবু যেন পরম শান্তি অনুভব করলেন৷বাইরের হাওয়া গায়ে লাগছে নিজেকে খুব হালকা লাগছে৷মনে হচ্ছে যেন ঐ হাওয়ার সাঙ্গে নিজেকে উড়িয়ে দিতে পারবেন৷আজ রাতে দত্ত বাবুর খুব স্বস্থির ঘুম হল৷
Translate
শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৭
সুখ
আমাদের বাড়ি কোলকাতার কাছে শহরতলী বলা যার। দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য সব বাড়ির মতো আমাদের বাড়িতেও একটি কাজের বৌ আছে নাম তার মায়া।রুক্ষ মেজাজ বিদ্যুতের গতিতে আসে কাজকর্ম সেরে ঝড়ের বেগে চলে যায়৷মায়া কে দেখতে রুক্ষ নয়৷গায়ের রং ফর্সা দোহারা চেহারা মুখশ্রীও ভালো৷একদিন জিজ্ঞাসা করলাম হ্যাগো মায়াদি তোমার বাড়ি কোথায়৷ও বলল "কেন এই তো তোমাদের পাড়ায় ঐ রাস্তার মোড়ের বস্তিতেই তো থাকি৷আমাদের পাড়ার রাস্তাটা যে বড় রাস্তায় মিশেছে তার পাশে কত গুলো ছোট ছোট বাড়ি আছে৷মাটির নয় পাকা বাড়ি৷মায়াদি ওখানেই থাকে৷"আমি বললাম নারে বাবা বিয়ের আগে মানে তোমার বাপের বাড়ি কোথায় ৷ঐ দিন মায়াদি বেশ relax moodএ বলল "বিয়ের আগে৷আমি পাণিহাটিতে থাকতাম৷আমরা চার বোন তিন ভাই৷বাবা আমাকে খুব ভালোবাসত৷মায়াদি আমায় ছোড়দি বলে ডাকে বলল জানো ছোড়দি আমি ছোটবেলায় বেজায় দুষ্টু ছিলাম৷লোকের বাড়ির পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ারা চুরি করতাম দুপুর বেলা আম চুরি করে খেতাম৷আমরা তো খুব গরীব ছিলাম শীতকালে তাই শুধু বাবার জন্য নলেন গুড় আসত ওটা কেউ খেত না আমি গুড় চুরি করে খেয়ে ঐ মাটির কলসিতে জল ঢেলে রাখতাম৷"সেদিন ঝড়ের বেগের মায়ার গতি থেমে গিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য ও স্থির জলাশয় হয়ে গিয়েছিল পিছিয়ে যাওয়া দিনগুলো যেন মায়ার মনে হঠাৎ করে সজীব হয়ে উঠেছিল৷সেদিন খিলখিলিয়ে খুব হাসল তারপর বলল "নাগো তোমার সাথে গল্প করতে বসলে আমার কাজে দেরি হয়ে যাবে৷"বেশ কিছুদিন পর বর্ষার সকাল আমিও একটু অলসতায় দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছি৷জানলা দিয়ে তাকিয়ে বৃষ্টি ভেজা নিম গাছ আর ঐ ভেজা গাছের ডালে দুটো ভেজা কাকের দুরবস্থা দেখছিলাম৷মায়া এসে ধপাস করে মেঝেতে বসে বলল "কি বৃষ্টি গো ছোড়দি এমন বৃষ্টিতে কাজ করতে যাওয়া কি ঝামেলা বলত৷"আমি বললাম "তোমার বিয়ের আগের গল্প বল না মায়াদি ৷তোমার বিয়ে কি করে হল। "ও একটু লজ্জা পেয়ে বলল "আমার বরের মাসির বাড়ি সোধ্পুর ও ওখানে যেত আর আমারও এক আত্মীয় সোধ্পুরের তাই ঐ খানেই আমাদের দেখা তারপর ভালোবাসা করে বিয়ে করেছি৷"মায়া বাঙালি কিন্তু ওর বর রামবোলিয়া উত্তরপপ্রদেশের লোক৷এখন অবশ্য এই বাংলারই বাসিন্দা হয়ে গেছে৷ মায়া বলে ওর বর হিন্দুস্থানী আমি বললাম "হ্যাগো আমরা সবাই তো হিন্দুস্থানী৷বলে সে কি গো ছোড়দি আমরা তো বাঙালী ওরা হিন্দিতে কথা বলে তাই হিন্দুস্থানী৷"আমি বলাম "নাগো আমাদের দেশ হিন্দুস্থান আর আমরা এই দেশের নাগরিক তাই আমরা হিন্দুস্থানী৷হিন্দি হল আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা৷"মায়াদি তো ভ্রূ উচিয়ে বলল "অতো আমি জানিনা আমার বর হিন্দুস্থানী ব্যস৷"যাক গিয়ে আমি আর তর্কে না গিয়ে আবার ওর পুরনো দিনের কথায় ফিরে গেলাম৷মায়া এবার নিজেই বলতে শুরু করল৷"খুব গরিব বাড়ির মেয়েগো আমি৷এত গুলো ভাইবোন কিন্তু খুব সুখেই ছিলাম৷চিন্তা ছিলনা দায়িত্ব ছিলনা৷পাড়ার মেয়ে গুলোর সাথে আড্ডা দিতাম ঘুরে বেরাতাম৷একবার ঝোঁকের মাথায় পায়ে হেঁটে গঙ্গায় গিয়ে চানও করেছি৷তারপর শিবরাত্রি তে রাত জাগা ভালোই ছিলাম জানো৷তারপর একদিন আমার বরের সঙ্গে পরিচয় হল প্রেম করলাম তারপর বিয়ে হয়ে গেল৷"মায়ার বরকে দেখতে বেশ ভালো লম্বা গায়ের রংও ফর্সা শরীরে মেদ নেই এখন অবশ্য যথেষ্ট বয়েস হয়েছে কিন্তু আমার মনে হয় ওর বর বরাবরই বয়স্ক৷পেশায় ফল বিক্রেতা মাঝে মধ্যে সন্ধেবেলায় বাস স্ট্যান্ডের ধারে ঘুগনী বেচে ভুট্টাও বিক্রি করে তাও কদিন যখন ওর মর্জি হয় তখন৷বিয়ের প্রায় কয়েক বছর পর থেকে গরিব বাড়ির মেয়ে মায়াকে ওর দুঃস্থ শাশুড়ি লোকের বাড়িতে কাজে লাগিয়ে দেয়৷পুরো সংসারের দায়ভার যেনও ওরই ঐ যে ও প্রেম করে বিয়ে করেছে তাই৷মায়ার তিন ছেলে আর স্বামী তাদের সব খরচ ও একাই লোকের বাড়ি কাজ করে মেটায়৷মায়ার বরের যা রোজগার তাতে ভুট্টা খাওয়া যায় সংসার চালানো যায় না৷মায়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকের বাড়ি কাজ করে তারপর সংসার সামলায় কিন্তু কখনও অভিযোগ করে না৷তিন ছেলেই এখন রোজগার করছে তারাও বিয়ে থাওয়া করে সংসার করছে মায়াকে কেউই দেখে না৷মায়া তাতেও কখনও অভিযোগ করে না৷ওর বরের প্রতিও মায়ার কোনও নালিশ নেই৷মায়া যে সত্যিকারে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল৷ভালোবাসা ন্যায় অন্যায় উচিৎ অনুচিত এই গুলো বিচার করে না৷কিন্তু এই গুলো বিচার করাও দরকার৷
মায়া কে দেখি আর আমার আর একজনের কথা বার বার স্মৃতি থেকে উঠে আসে৷আজ থেকে প্রায় ১৫ -১৬ বছর আগে আমরা থাকতাম পুরুলীয়া জেলার এক শহরে৷ মালভূমি এলাকা আর মানভূমি লোকজন ওখানকার কথা বলার ধরণ ওদের গ্রামের লোকেদের চেহারা এখানকার মানে কলকাতার লোকেদের থেকে একটু আলাদা৷তখন আমাদের বাড়িতে কাজ করত এক সাওতালী মহিলা ৷নাম ছিল বিনোদিনী৷কালো কুচকুচে পাষানের মতো চেহারা চকচকে ত্বক তবে লম্বা নয়৷সেও এক ঝড় তেমনি উচ্চস্বরে কথা বলত৷তীব্র বেগে এসে সব কাজ সেরে আবার আরেক বাড়ি৷ওরও একটা অতীত ছিল৷বিনোদিনী মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে ছিল৷সোনাদানা জিনিস পত্র দিয়ে বিনোদিনীর বাবা বিনদিনী কে বিয়ে দিয়েছিল৷বিয়ের পর একটা মেয়ে হয়৷বিনদিনী বেশ ভালোই ছিল৷কিন্তু হঠাৎ একদিন বিনদিনীর স্বামী আরেকটা বিয়ে করে আনে৷বিনদিনী প্রতিবাদ করলে সে জানায় "তুই চলে যা এই লতুন বৌ ইখানেই থাকবেক আমার সইঙ্গে"৷এই অন্যয় আব্দার বিনদিনী সহ্য করতে পারেনি৷মেয়েকে রেখে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল৷আমার এখনও মনে পরে বিনোদিনীর কথা৷আমি তখন অনেকটাই ছোট স্কুলে পড়ি৷বিনোদিনী কে আমি আর আমার দিদি বিনোদিনী মাসি ডাকতাম৷বিনোদিনী মাসি আমাদের রাজকুমারি বলত৷ও মন থেকে খুব আধুনিক ছিল৷আমরা জোরে জোরে পড়া মুখস্থ করলে ও কাজ থামিয়ে শুনত৷বলত "তোরা অনেক বড় হবি তোরা নিজের পায়ে দাঁড়াবি৷"মা র কাছে ও গল্প করেছিল কি ভাবে ও গ্রাম থেকে পুরুলীয়ার এই রেলের শহরে এল৷যে দিন ও ঘর ছেড়েছিল সেদিনটা বিনদিনী মাসি rail station এ কাটিয়ে ছিল সারাটা দিন না খাওয়া শুধু মনের মধ্যে রাগ,ঘেন্না,অসহয়তা,দুশ্চিন্তা এই সব অনুভূতি গুলো সমুদ্রের ঢেউ এর মত বার বার আছড়ে পরছিল৷কি করব কোথায় যাব "সরা জীবন এই ইস্টেশনে বসেই থাইব কিন্তু ঐ ঘর যাবক নাই যেখানে আমার মরদ আরেকটা বিয়া করছে৷"তারপর একজন সজ্জন ব্যক্তি বিনদিনী মাসিকে দেখে ও তার বাড়িতে নিয়ে যায়৷তার বাড়ির কাজকর্ম কর্ম করে বিনদিনী৷জায়গাটি যেহেতু railway junction তাই ওখানে প্রচুর রেল কোয়ার্টারের আধিক্য ছিল৷তাই অন্য বাড়ি গুলোতে কাজ পেতে বিনদিনীর কোনও অসুবিধে হয়নি৷লোকের বাড়িতে কাজ করে নিজের একটা বাড়ি ভাড়া করে সেখানেই থাকতে শুরু করে৷একজন বাবু আবার ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন তিনি বিনদিনী কে ব্যঙ্কের ঝাড়পোছ আর চা খাওয়ানোর কাজে লাগিয়ে দেন৷তার সুবাদেই ব্যঙ্কের পাশে একটা ছোট্ট ঘরও ভাড়া পায় যাতে দরকার পরলে বিনদিনী কে কাজের সুবিধার জন্য তলব করা যায়৷এই ভাবেই চলছিল বেশ৷তারপর একদিন বিনোদিনী মাসি ওর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তখন বুঝতে পারে সময় কতটা দ্রুতবেগে এগিয়ে গেছে৷ওর ছোট্ট মেয়ে বড় হয়ে গেছে তার বিয়ে হয়ে গেছে আবার সে জন্ম দিয়েছে দুই যমজ কন্যা সন্তান৷মেয়ে আর নাতনীদের দেখে বিনদিনী মাসির চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল৷ছোট্ট মেয়েটার শৈশব থেকে যৌবনের পথ যাত্রার সাক্ষী হতে পারল না বিনদিনী৷মেয়েও সেই সংসারের জাঁতাকলে অবরুদ্ধ৷মার কাছে আব্দার করল৷ "মা আমার যমজ দুই মিয়া গুলাকে আমি একা সামাল দিতে লাইড়ছি৷তুই একটাকে লিয়ে যা৷"বিনদিনী তো আনন্দে উচ্ছল৷তবে কি আমার মেয়ে আমায় ওর ছোটবেলাটা উপভোগ করার সুযোগ করে দিল৷বিনদিনী একটি নাতনীকে নিয়ে নিজ বাসস্থানে ফিরল৷বিনোদিনী মাসির নাতনী দুটির নাম গুলো বেশ ছিল,জল্পনা আর কল্পনা৷কল্পনা ওর দিদার সঙ্গে থাকতে শুরু করল৷মোটাসোটা কালো চেহারা মাথা ভর্তি ঝাকড়া চুল৷ঐ কল্পনা হল আমার সঙ্গী৷নাতনীকে পেয়ে বিনোদিনী নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করল৷ও একা মানুষ তাই লোকের বাড়ি কাজ করে বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় করে ছিল৷তারপর খাওয়া খরচা প্রায় ছিলই না৷সাত বাড়ি কাজ করত প্রত্যেকেই জলখাবার,দুপুরে ভাত তরকারি দিয়েই দিত৷রাত্রি বেলা এক ব্যাঙ্কের বাবুর বাড়িতে রুটি করত সেখানেই ও খেত৷তাই বিনদিনীর সঞ্চয় ভালই ছিল৷ও সুদের ব্যাবসা শুরু করল৷আশে পাশের কামিনদের সুদে টাকা ধার দিত৷তারপর দেখি হঠাৎ ছাগলের ব্যাবসা শুরু করল৷ব্যবসায় মোটামুটি লাভও হয়েছিল৷সবাই বলত বিনোদিনী মাসি এখন ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখার খাতা খুলেছে৷নাতনীটাও শহরে এসে আদর যত্ন পেয়ে দিব্যি ছিল৷কিন্তু একদিন হঠাৎ বিনদিনীর মেয়ের আগমণ হয়৷সে বলে" না মা আমি কল্পনা কে লিয়ে যাব৷"বিনদিনীর বুকে যেন কেউ আঘাত হানে খুব কান্না পায় কিন্তু কিছু বলে না কল্পনাকে পাঠিয়ে দেয়৷পরে জানতে পারে ওর মেয়ে দুই নাতনীকেই কাজে লাগিয়ে দিয়েছে৷ওদের গ্রামে কোনও bridge এর constructionহচ্ছিল৷সেখানে ভালো টাকা তাই দুই মেয়েই যদি খাটে সংসারে আয় ভালো হবে৷বিনদিনী এই কথা জেনে অনেক প্রতিবাদ করে মেয়ের সাথে ঝগড়া করে কিন্তু লাভ হয় না৷মেয়ে জানায় "আমি যখন ছোট ছিলাম তখন তুই তো ছিলিনা এখন আমি আমার মিয়া গুলাকে যেমন রাখি তুয়ার তাতে কি হইচ্ছে৷"বিনদিনী নির্বাক হয়ে যায়৷ফিরে আসে ওর ছোট্ট ভাড়া বাড়িতে৷ব্যাঙ্কে বাবুদের কাজে লেগে পরে৷এখন আর লোকের বাড়ির খাবার খায় না৷কল্পনা আসার পর ছোট্ট ছোট্ট হাড়ি কড়া কিনে নিজেই ঘরে রান্না করত৷এখন নিজেই নিজের জন্য রান্না করে খায়৷পুজোয় সাড়ী কেনে একা একাই পুজোয় ঠাকুর দেখে বেড়ায়৷
ওর logicহল এটাই যখন আমি আমার গতর খাটিয়ে পয়সা রোজগার করছি তবে জীবনের সব সুখ সুবিধা গুলো থেকে নিজেকে বঞ্চিত করব কিসের জন্য৷না অন্যায় করব না সইব৷জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত,প্রত্যেকটা দিন,সকল ঋতু সমান ভাবে উপভোগ করব৷আমি আমার মতো বাঁচব আমি নিজের জন্য বাঁচব৷আর অন্য দিকে মায়া সেও সুখী সেও পুজোয় নতুন সাড়ী কেনে তবে ছেলের বৌদের জন্য পুজোয় ঠাকুর দেখতে যায় না কারণ আর শরীর দেয় না৷কিন্তু তবু সে তার সংসারের সদস্যদের জন্য সুখী৷সদস্যরা তাকে নাই দেখুক বা ভালো নাই বাসুক৷এ যেন একই নদীর দুই রূপ একজন খরস্রতা অপরজন শান্ত সলিলা৷একজন স্বাবলম্বী এবং স্বাধীণ স্বতন্ত্র গুল্ম, আর অপরজন স্বাবলম্বী কিন্তু নির্ভরশীল ঠিক যেন লতা৷
মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৭
মাছের ঝোল
মাছের ঝোল শুনলেই জ্বিভে জল আসে সব বাঙালীরই। মাছ বিশেষতঃ মাছের ঝোল দিয়ে ভারতবাসীদের মধ্যে বাঙালিকে চেনা বড়ই সহজ হয়। এই বাঙালীর identification এর প্রতীক মাছের ঝোলের সঙ্গে যদি জীবনের তুলনা করা যার তবে বেশ হয় কিন্তু। একজন মানুষের জীবন যদি কিছু উপাদান দিয়ে তৈরী হয় যেমন-জন্ম, শিখ্খা,জীবিকা,সখ,সাফল্য এবং সম্পর্ক।হ্যাঁ, সম্পর্ক বড় জটিল জিনিস মাছের ঝোল বড়ই সরল।কিন্তু সম্পর্কটা সরল করতে পারলে তো জীবনের অনেক জটিল কঠিন অঙ্কের সমাধান হয়ে যায়। এই ধরুন মাছের ঝোলে leading role এ আছে মাছ আর ঝোল হল আধার মাছের সুস্বাদু রস ঝোলে এসে মিললে তা পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হয়।মাছ বেশী সিদ্ধ হলে স্বাদ থাকে না আবার মাছ ভাজা বেশী হলেও ঝোল সুস্বাদু হয় না।তাই balance মানে সামঞ্জস্য আনা বিশেষ দরকার।তারপর নুন ঝাল এরা supporting role এ আছেই মানুষের জীবনের সবথেকে important ব্যক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হলে কিছু ছোট্ট ছোট্ট tips মানলেই হয়ত সম্পর্ক টা সরল করা যাবে।কোনও কিছু অতিরিক্ত হলে যেমন তা নষ্ট হয়, নুন, ঝাল বা সিদ্ধ বেশী হলে মাছের ঝোল সুস্বাদু থাকে না তেমনি সম্পর্কের মধ্যে রাগ জেদ ego বেশী পরিমাণ ঢুকে পরলে সম্পর্কও নষ্ট।তাই ভালোবাসা যেমন দরকার ঠিক তেমনই সামঞ্জস্যও আবশ্যিক । ভালোবাসাও যদি অতিরিক্ত হয় তাও আবার বেশীর ভাগ সময় মানুষের চরিত্র গঠনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বা চরিত্র নষ্ট হয়। যেমন মায়ের অতিরিক্ত স্নেহের বসে পুত্রের সর্বনাশ হয়েই থাকে।ঠিক/ভুল নির্ণয়ের খ্মতা লোপ পায়। তাই পুনরায় ঐ একই কথা সামঞ্জস্য বড়ই দরকার সে মাছের ঝোলে নুনের সামঞ্জস্য বা মানুষের জীবনে সকল অনুভূতির সামঞ্জস্য।
রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭
ইঢ্ছা
আমাদের সকলের ইচ্ছা আছে। ছোটো ইচ্ছা বড় ইচ্ছা নানান ইচ্ছা।শিশুর জন্ম গ্রহণ করার পর স্তন পানের ইচ্ছা জন্মের পর এটা হল প্রথম ইচ্ছা বা যাএার প্রথম সিঁড়ি। তারপরে শৈশব কালে নানা খেলনা পাওয়ার ইচ্ছা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছার আয়তনও বাড়তে থাকে। ইচ্ছা টা দরকারও বটে তবে এই ইচ্ছা গুলো পুরণের চাইতে ত্যাগ করে মহিলারাই। ধরা যাক বাড়িতে বড় মাছ এল ছোট্ট মাছের পিস টা কিন্তু মায়ের পাতেই পড়ে। মুরগীর লেগ পিস, ইলিশ মাছের পেটি বা ধরুন বোয়াল মাছের লেজা কোনটাই মায়ের পাতে দেখা যায় না বা দেখতে পাওয়ার নজির বিরল। কিন্তু পরিবারের সকলের রসনা তৃপ্তির জন্য পরিশ্রম করে রান্না করার পর কি কখনও ইচ্ছা হায়না যে আজ সেরা টুকরোটা খেলে কেমন লাগত। সেকাল থেকে একাল অবধি কিছু কিছু জিনিস অপরিবর্তিতই রইল তবে দৈনন্দিন জীবনে আমরা সকলেই অল্পবিস্তর ইচ্ছার মুখ চেপে ধরি। যেমন অফিসের বসের উপেক্ষা বা অবজ্ঞা সুর শুনে অনেকেরই ইচ্ছা হয় দি বেটার গালে কশিয়ে বা দি resignation টা ছুড়ে কিন্তু হয়না হঠাৎ বহু আকাঙ্ক্ষিত মনের আশা পুরণ হলে ইচ্ছা হয় অনেক উঁচু বিল্ডিং এর ছাদে উঠে প্রাণ খুলে চিৎকার করি কিন্তু হয় না। হৃদয় বিদারী আঘাত পেয়ে ইচ্ছা হয় চিৎকার করে কাঁদি কিন্তু পারি না। সমাজের অঅনেক নোংরামি দেখে ইচ্ছা হয় এই দুই হাতে চাবকে সোজা করি ঐ নৃশংস ক্রীমিনাল গুলোকে যারা নারী শরীর উপভোগ করা কে জন্মসিদ্ধ অধিকার মনে করে।এই ইচ্ছাটা বড়ই শক্ত কিন্তু তৃপ্তি দায়ক তাও পারিনা। এই সব ইচ্ছা রোজ আমাদের মনে কোথায় উকিঁ ঝুঁকি মারে আর আমরা ইশারা করে ইচ্ছা র মুখে আঙুল দিতে বলি। কি করা যায় সমাজে যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার কিছু কিছু জন্তু রূপীমানব বা মানব রূপী জন্তুরই আছে।
শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৭
স্বাদ
স্বাদ
এই শব্দটি শুনলে একটা অনুভূতি তো সকলের জাগে তা হল খাদ্য বা খাওয়ার জিনিস। নানা খাদ্য সামগ্রী প্রকৃতি আমাদের চারপাশে ছড়িতে রেখেছে আর আমরা তার সঠিক প্রয়োগ করি।তার জন্য দরকার একটি পদ্ধতি, তা হল রান্না যা পুরোপুরি মনুষ্য নিয়ন্ত্রিত।আবার কিছু কিছু শব্দ যেন নিজেই বিশেষ স্বাদ বহন করে যেমন লঙ্কা ঝাল, নীম তেতো, তেঁতুল টক, লবণ নোনতা,চিনি মিষ্টি। শব্দ ধ্বনি কানে পৌছালেই স্বাদঅনুভুত হয় । এই সকল স্বাদ সকলেই উপভোগ করেন।ধনী, দরিদ্র,বেকার,অসুস্থ সকলেই । কিন্তু এর বাইরে একটি স্বাদ আছে। তা হল সাফল্য, জয় এর স্বাদ। আমরা ক জন এই স্বাদ অনুভব করি। আমাদের দেশের কটা ছেলে বা কটা মেয়ে এই স্বাদ পায় । প্রকৃতির থেকে প্রাপ্ত উপকরণ আর মনুষ্য সৃষ্টি পদ্ধতি রান্না বা রন্ধন এর মাধ্যমে আমরা খাদ্য সম্পর্কিত সব স্বাদ অনুভব করি। কিন্তু ছোট্ট বেলা থেকে বড় বড় স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠার পর আমার কি সেই সাফল্যের স্বাদ পাই। প্রত্কটি শিশু যখন ধীরে ধীরে পরিণত হয় তখন তার স্বপ্ন ও যদি পূর্ণতা পেত তবে? এক সাথে একই স্কুলে পড়ে বড় হয়ে ওঠা এক ঝাঁক ছেলেমেয়ের মধ্যে কজন পায় সাফল্যের স্বাদ বাকিরা ছিটকে যায় সাফল্য থেকে শত ক্রোশ দুরে আর স্বাদ,স্বাদ থাকে না জীবণে,ওটা খানিকটা বিস্বাদ হয়ে যায়।
এই শব্দটি শুনলে একটা অনুভূতি তো সকলের জাগে তা হল খাদ্য বা খাওয়ার জিনিস। নানা খাদ্য সামগ্রী প্রকৃতি আমাদের চারপাশে ছড়িতে রেখেছে আর আমরা তার সঠিক প্রয়োগ করি।তার জন্য দরকার একটি পদ্ধতি, তা হল রান্না যা পুরোপুরি মনুষ্য নিয়ন্ত্রিত।আবার কিছু কিছু শব্দ যেন নিজেই বিশেষ স্বাদ বহন করে যেমন লঙ্কা ঝাল, নীম তেতো, তেঁতুল টক, লবণ নোনতা,চিনি মিষ্টি। শব্দ ধ্বনি কানে পৌছালেই স্বাদঅনুভুত হয় । এই সকল স্বাদ সকলেই উপভোগ করেন।ধনী, দরিদ্র,বেকার,অসুস্থ সকলেই । কিন্তু এর বাইরে একটি স্বাদ আছে। তা হল সাফল্য, জয় এর স্বাদ। আমরা ক জন এই স্বাদ অনুভব করি। আমাদের দেশের কটা ছেলে বা কটা মেয়ে এই স্বাদ পায় । প্রকৃতির থেকে প্রাপ্ত উপকরণ আর মনুষ্য সৃষ্টি পদ্ধতি রান্না বা রন্ধন এর মাধ্যমে আমরা খাদ্য সম্পর্কিত সব স্বাদ অনুভব করি। কিন্তু ছোট্ট বেলা থেকে বড় বড় স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠার পর আমার কি সেই সাফল্যের স্বাদ পাই। প্রত্কটি শিশু যখন ধীরে ধীরে পরিণত হয় তখন তার স্বপ্ন ও যদি পূর্ণতা পেত তবে? এক সাথে একই স্কুলে পড়ে বড় হয়ে ওঠা এক ঝাঁক ছেলেমেয়ের মধ্যে কজন পায় সাফল্যের স্বাদ বাকিরা ছিটকে যায় সাফল্য থেকে শত ক্রোশ দুরে আর স্বাদ,স্বাদ থাকে না জীবণে,ওটা খানিকটা বিস্বাদ হয়ে যায়।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
